১৮৯১ খ্রিষ্টাব্দে সরকারি হিসাব অনুযায়ী গোটা ভারতবর্ষে মুসলমানদের জনসংখ্যা ছিল প্রায় পাঁচ কোটি। এর মধ্যে অর্ধেকের কিছু কম—২,৩৬,৫৮,৩৪৭ জন বসবাস করতেন বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যায়। তারমধ্যে কেবল বাংলাতেই ছিলেন ১,৯৫,৭৭,৪৮১ জন মুসলমান। অর্থাৎ গোটা ভারতবর্ষের মুসলমান জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি বাংলায় অবস্থান করতেন।
তখনই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, মুসলমান শাসনের মূলকেন্দ্র দিল্লি-আগ্রায় এত সংখ্যক মুসলমান না থাকলেও বাংলায় এত সংখ্যক মানুষ মুসলমান কীভাবে হলো। কেউ বলল, ধর্মান্তরের মাধ্যমে, আবার কেউ বলল, এরা ছিল আফগান-তুর্ক থেকে আগত মুসলমানদের উত্তরসূরি।
তাহলে বাংলার মুসলমানদের উৎস কোথায়? তারা কারা? ধর্মান্তরিত স্থানীয় মানুষ? আদিবাসী জনগোষ্ঠী? নাকি বিদেশি মুসলিম শাসক ও আগন্তুকদের উত্তরসূরি? এই জটিল প্রশ্নগুলোর উত্তর লুকিয়ে আছে বইটির প্রত্যেক পৃষ্ঠার পরতে পরতে।








১৭৬০ সালে তৈরি হওয়া একটি বিদ্রোহী বাহিনী, ১৭৬৩ সালে সর্বপ্রথম আক্রমণ করে—বাংলায় উড়ে এসে জুড়ে বসা ইংরেজদের ওপর। একযোগে বহু জায়গায় আক্রমণ। দেখে দেখে ইংরেজদের ঘাঁটিতে, ইংরেজঘেঁষা জমিদারদের কাছারিতে।
১৭৮৩ সাল। একে একে তাদের উচ্চপদস্থ বিজ্ঞ ছয়জন অফিসার তাদের হাতে প্রাণ দিলো। কে এত নিপুণভাবে তাদের পরিচালনা করছে! কে গোটা বাংলা—বিশেষত উত্তরবঙ্গকে বিদ্রোহে উজ্জীবিত করছে! কে সেই মহানায়ক? প্রচলিত বিভিন্ন ধারণা ও মিথ্যে ইতিহাসের আস্তাকুঁড় থেকে ছেঁকে ছেঁকে তুলে আনা হয়েছে ইতিহাসের এই মহান নায়ক—নবাব নূরুদ্দীন মুহাম্মদ বাকের জং-কে।